২০ জানুয়ারির আগে স্টিমুলাস বিল হচ্ছে?

স্টিমুলাস

মহামারি করোনাভাইরাসে এমনিতে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র। তার ওপর শুরু হয়েছে দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা। বিশ্বে করোনায় যত বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার বেশির ভাগ মারা গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। আক্রান্তের দিক থেকেও শীর্ষস্থানে দেশটি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ২ লাখ ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর গত বৃহস্পতিবার সবচেয়ে বেশি ২ হাজার জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের ১৪ মে’র পর এই সংখ্যা সর্বোচ্চ।

করোনায় আবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কায় পড়েছে কর্মজীবী মানুষ। দিন যত যাচ্ছে, মানুষের আর্থিক সংকট প্রকট হয়ে দেখা দিচ্ছে। গত মার্চে শুরু করোনায় বেকার মানুষের জন্য নানা প্রণোদনা দেওয়া হয়। কংগ্রেসে নতুন করে কোনো বিল পাস না হলে সেই প্রণোদনার একাধিক কর্মসূচি বছরের শেষ দিকে শেষ হবে। তবে সেই বিল এখন কতটুকু সাফল্যের মুখ দেখবে, সেটাই এখন বড় একটি প্রশ্ন?

ইতিমধ্যে মহামারির কারণে একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা-বাণিজ্য, অন্যদিকে সরকারের করোনাভাইরাস ত্রাণ তহবিলে বিপুল অর্থ খরচের কারণে মহাবিপাকে মার্কিন অর্থনীতি। দেশটির বাজেট ঘাটতি রেকর্ড ৩ ট্রিলিয়ন ডলার (৩ লাখ কোটি) ছাড়িয়ে গেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ফেডারেল সরকার খরচ করেছে ৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। এর মধ্যে শুধু করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতেই ব্যয় হয়েছে ২ ট্রিলিয়ন ডলার। এই ব্যয় আয়কর থেকে অর্জিত রাজস্বকে (৩ ট্রিলিয়ন ডলার) ছাড়িয়ে গেছে।

২০০৯ সালে যে রেকর্ড পরিমাণ ঘাটতিতে পড়েছিল মার্কিন অর্থনীতি, এবারের ঘাটতি তার দ্বিগুণের বেশি। ওই সময় ২০০৮ সালের মহামন্দার ধাক্কায় আবাসন খাতের বেহাল অবস্থা সামলাতে হিমশিম অবস্থা হয়েছিল ওয়াশিংটনের। অবশ্য কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর আগেই চলতি অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি ১ ট্রিলিয়ন ডলার হওয়ার পথেই ছিল। মার্কিন অর্থনীতির ইতিহাসে এটিও বেশ বড় ঘাটতি। কিন্তু করোনাভাইরাসে অর্থনৈতিক প্রভাব ন্যূনতম রাখতে আগাম সতর্কতা হিসেবে সরকার ব্যাপক খরচ শুরু করায় ঘাটতি লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস চলতি মাসে

ভবিষ্যদ্বাণী করেছে, যুক্তরাষ্ট্র এবার বার্ষিক ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার ঘাটতির মুখে পড়তে যাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এই ঘাটতি তিন গুন। যেখানে ফেডারেল সরকারের অর্থবছর শেষ হয় সেপ্টেম্বরে। সরকারি সংস্থাটি আরও বলছে, চলতি অর্থ বছরে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ঋণ ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

করোনা মহামারির কারণে যারা চাকরি হারিয়েছেন, তাদের অনেকেই জরুরি বেকার ভাতার ওপর নির্ভর করছে, যা অতিরিক্ত ১৩ সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে শ্রম বিভাগের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বর্তমানে প্রায় ১৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন বেকারভাতা সুবিধা পাচ্ছেন, যা ৩১ ডিসেম্বর বন্ধ হয়ে যাবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দ্বিতীয় স্টিমুলাস (উদ্দীপনা) প্যাকেজ নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে আলোচনা স্থগিতের আদেশ দেন ট্রাম্প।

সেই প্যাকেজ নিয়ে কর্মহীন মার্কিনরা অনেক আশায় ছিলেন। নির্বাচন শেষ হলেও এখনো ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। ফলে বেকার লাখ লাখ মার্কিনের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত মার্কিন নাগরিকদের দুর্ভোগ লাঘবে দ্বিতীয় স্টিমুলাস প্যাকেজ নিয়ে রিপাবলিকান, ডেমোক্র্যাটরা যখন মতৈক্যে পৌঁছার কাছাকাছি, তখনই বাঁধ সাধেন ট্রাম্প। তিনি ৩ নভেম্বর নির্বাচন পর্যন্ত এ নিয়ে সব আলোচনা স্থগিতের আদেশ দেন হোয়াইট হাউজ প্রতিনিধিদের। অক্টোবরের শুরুর দিকে হাউসে পাস হওয়া ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ নিয়ে ট্রেজারার সেক্রেটারি মানচিনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।

সে সময় ডেমোক্র্যাটরা তাদের আগের ৩ ট্রিলিয়ন বরাদ্দের দাবি থেকে সরে এসেছিল। ফলে দূরত্বও কমে এসেছিল। আলোচনা স্থগিত হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেন হাউস স্পিকার। প্রেসিডেন্ট ডেমোক্র্যাট শাসিত রাজ্যগুলোকে উদ্দেশ্য করে এই স্থগিতাদেশ দেন বলে মনে করেন স্পিকার।

এরপর নির্বাচনকালে ও পরে এ নিয়ে কয়েক দফা বিল পাসের চেষ্টা হলেও রিপাবলিকানদের কারণে সেটি আর এগোয়নি। এদিকে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ৩ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ পাস করার অনুরোধ করেছেন। তবে তাঁর কংগ্রেসকে বিল পাসের অনুরোধের একদিন পর সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ লিডার মিচ ম্যাককনেল এই বিলের কড়া সমালোচনা করেন।

ডিসেম্বরের আগে করোনার নতুন বিল পাস না হলে নাগরিকদের বাড়িভাড়া, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনায় হিমশিম খেতে হবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিল পাস না করেন, তবে বেশির ভাগ মার্কিনের অপেক্ষা করতে হবে ২০ জানুয়ারি নবনির্বাচিত জো বাইডেনের শপথ গ্রহণ পর্যন্ত।


শাহ আহমদ
শাহ আহমদ
https://www.awaazbd.live/author/awaaz-usa

শাহ আহমদ বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায় জন্মগ্রহন করেন। শিক্ষা জীবনের শুরু ঢাকার সানরাইজ প্রি ক্যাডেট এন্ড কলেজে। তারপর ২০০৪ সালে কুলাউড়ার জালালাবাদ হাইস্কুল থেকে এসএসসি, ২০০৬ সালে মদন মোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ২০০৭ সালে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি অনার্সে ভর্তি হন।এরপর ইনফরমেশন টেকনোলজিতে পড়ালেখার জন্য লন্ডনে পাড়ি জমান এবং ক্রাউন ইন্টারন্যাশনাল কলেজে ব্যাচেলর শেষ করেন। বর্তমানে সপরিবারের যুক্তরাস্ট্রে বসবাসরত শাহ আহমদ, ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্য ও সৃজনশীল সবধরনের কাজের সাথে জড়িত ছিলেন। ২০১৬ সাল থেকে আওয়াজবিডি ও সাপ্তাহিক আওয়াজবিডির প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশের দায়িত্ব পালন করছেন।শাহ আহমদ বাংলাদেশ ডন-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।

mujib_100
ads
আমাদের ফেসবুক পেজ
সংবাদ আর্কাইভ